বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
কোনো ভাইয়ের রাজনীতি করিনি, দলকে ভালোবেসে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি নাসিক ৪নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ আমার স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও অধিকার: গোলাম মসীহ্ বিএনপিতে মীরজাফরদের ঠাঁই হবে না : আজহারুল ইসলাম মান্নান রূপগঞ্জে ধানের শীষে ভোট চেয়ে উঠান বৈঠক সিদ্ধিরগঞ্জে ৭নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের পরিচিত সভা, দোয়া ও মিলাদ নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া সৈনিক দলের কার্যালয় উদ্বোধন সিদ্ধিরগঞ্জে ৭নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের পরিচিত সভা, দোয়া ও মিলাদ সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্রদল নেতা আবিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মী নিয়ে ধানের শীষের গনসংযোগে অংশগ্রহণ সিদ্ধিরগঞ্জে তাতীঁদল নেতা মোহর চাঁনের উদ্যোগে ধানের শীষের গনসংযোগ

মাগুরায় বিএনপির দু-গ্রুপের সংঘর্ষে দলীয় কার্যালয়সহ ৫টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ 

 

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুরে দফায় দফায় বিএনপির দু-গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের দলীয় কার্যালয়সহ ৫ টি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। বুধবার (১৫ জানুয়ারী)  সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের রাধানগর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে বুধবার সকালে নজরুল ইসলামের সমর্থক রাধানগর ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারিক বিশ্বাসের বাড়ি আবু জাফরের নেতৃত্বে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। এ ঘটনার পরিপেক্ষিতে বিকেলে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কাদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির দু-গ্রুপের দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, বিল্লাল, হাফিজার ও রুহুলের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আলী বলেন, সকালে আবু জাফরের নেতৃত্বে আব্দুল বারিক বিশ্বাসের বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় আবু জাফর ও তার লোকজন এবং শ্রীপুর থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুন্সি রেজাউল করিমের ভাতিজা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল মুন্সি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে শ্রীপুর থেকে লোকজন এসে আমাদের দলীয় কার্যালয় ও বেশ কয়েকটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সি জাহাঙ্গীর হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল মুন্সি বলেন, তারা আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা সংবাদ পেয়ে উভয় গ্রুপকে শান্ত করতে সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর পূর্বেই দু-গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে আমাদের কোন ভূমিকা নেই।

এ বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বারিক বিশ্বাস বলেন, আমরা আবু নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ শতক জমি কিনেছি এবং  বর্তমানে জমিটির মালিক বিদ্যমান আছি।  জমিতে আমরা বিল্ডিং ঘর করছি এতদিন বাঁধা দেয়নি। এখন জাফর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। বিল্ডিংয়ের দেওয়াল দুই জায়গা ভেঙেছে। বিল্ডিংয়ের সামনে গেট বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘিরে রেখেছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে তার স্ত্রী আরজিনা বেগম বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আমার স্বামীকে জেলে পাঠিয়ে তারা জমিটি দখল করে ঘর তুলে নেয়। আমার স্বামী পরে জমিটি ছেড়ে দিতে বললে তারা ছাড়েনি। বুধবার সকালে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা রাধানগর বাজারে বিএনপির অফিস ও আমার স্বামীর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।

এ বিষয়ে রাধানগর বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আইনাল হোসেন বলেন, বাজার কেন্দ্রিক মারামারি করা ঠিক হয়নি। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট কারো মঙ্গল বয়ে আনবে না। আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত